পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ
নিউ জিল্যান্ড পর্ব (১৬/১১/০৮ নিউক্যাসেল, অসট্রেলিয়া)
I am traveling for a cause, I am letting peoples know about HIV and AIDS. For more please have a look at www.muntasirmamun.com.
প্রিয় পাঠক, আমার লেখার অতি মাত্রায় ভুল থাকে, দয়ে করে ক্ষমা করে দিবেন। আমার পোস্ট গুলোর পর যারা আমাকে উৎসাহ দেয়েছেন তার জন্যই আমি লেখাটাকে বাড়ানর সাহস পেয়েছি। মূলত আমি গল্প শুনতে ভালবাসি।যাদের উত্তর দিতে পারিনি, আমি ক্ষমা প্রার্থী। মুক্তাঙ্গনের যারা আমার লেখার মন্তব্য করেছেন তাদের প্রতি আমার অকৃত্তিম ভালবাসা। অবিশ্বাস্য সব মন্তব্য করেছেন অনেকে-আমি তাদের প্রতিদানের চেষ্টা চালিয়ে যাব, যতটা পারি।
আর আমার এই লেখাটা সেই অচেনা বন্ধু নির্জন সৈকতের উৎসর্গে। যার কথা আছে অল্প করে।
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

-
-
ভ্রমন পরিক্রমায় আমার নিউ জিল্যান্ড আসতে বেশ খানিকটা সময় এবং কাঠখর পোড়াতে হলো। ম্যক্সিকো থেকে এখানে আসার জন্য আমি কোন পথেই খুজে পাচ্ছিলাম না। হয় আমাকে আমেরিকা হয়ে আসতে হবে নয়তো ইউরোপ। আমার ফিরতি টিকেট হলো সাও পাওলো থেকে দুবাই হয়ে ব্যংকক। তবে সমস্যা এখানে যে আমার থাই ভিসা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে এবং সপ্তাখানেক আগে থাই এম্বেসিতে ভিসার জন্য আবেদন করেও কোন ফলাফল পাচ্ছিলাম
- অকল্যান্ড এবং স্কাই tower
না। অফিসারের বলে দেয়া সময় মত ফোন দিলে সুন্দর মত বলতেন আমার কাগজ অন প্রসেস। আমি আর কিছু বলার আগেই তার লাইনটা কেটে যেত কেন জানি। আমি কি পরিমান আসহায় বোধ করতাম তার কোন প্রমান আমার হাতে নেই। ভাগ্যটা প্রসন্ন ছিল ম্যাক্সিকোতে খুজে পাওয়া বাংলাদেশীদের সাহায্য না পেলে সে যাত্রায় আমাকে হয় পথেই বসে থাকতে হতো। এবং এছাড়া আমার আর করার কিই বা থাকতো আমি জানি না।
ঈদের আনন্দ আমার পরিচিত দশ বাংলাদেশীর চোখে মুখে। আমি এখন তাদেরই একজন। না পারতে আমাকে বেশ কটা দিন আরোও থাকতে হলো তাদের সাথে। এবং ভাগ্যবীনা বেজে উঠল ঠিক ঈদের পরের দিন। আমি থাই এম্বেসি থেকে ভিসাটা পয়ে গেলাম শেষমেষ। দেরি না করে সোজা চলে এলাম ব্রাজিল আবার। থাকতে হবে মাত্র কিছুটা সময়। তাই আর এয়ারপোর্ট থেকে না বের হয়ে অভ্যাস বসতো হাটতে থাকলাম বাংলাদেশের খোজে। যে গেটে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল কাস্টম থেকে সেটার যাত্রিরা ডালাসগামী। আমি তাদের মাঝে আমাদেরই মত দেখতে একজনকে খুজে পেলাম।ফ্লাইটের দেরি আছে। ল্যাপটপে মুখ গোজা ভদ্রলোকের সাথে আমাদের ল্যাপটপের কানেকসশন জনিত সমস্যা সমাধানের উছিলায়। একটু আশা হত হলাম। তিনি আমার দেশের তো নয়ই ইভেন এশিয়ারই না। গায়েনায় থাকেন ।চলে এলাম আমার জায়গায়। ল্যাপটপএ লেখার ভান করে আমি মানুষ খুজি আমাদের মত কেউ। পেলামও। দাড়ি টুপি পড়া এক ভদ্রালোক পরিবার নিয়ে আমি যে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছি তিনিও তার জন্যই খোজ নিচ্চেন। বেশ খুশি মনে এগিয়ে গেলাম তাদের কথোপকথন শোনার জন্য। অহ! ইনি তো পাকিস্তানী! পালিয়ে এলাম কেন জানি না । ঘন্টাখানেক বসে বসে মানুষ গোনা ছাড়া আর কিছু করার না পয়ে হাটা শুরু করলাম। ঠান্ডায় লাগছিল বেশ।
এবার ছোট একটা দলের দেখা পেয়ে এগিয়ে গেলাম মনেই হলো ভারতেরই হবে। হ্যা, তাই। বন্ধু বৎসল তিন ভদ্রলোক তিন কারনে ব্রাজিলে এসেছেন। বেশ অবাক লাগলে শুনে তাদের একজন এখানে এসেছেন কম্পানি পরিদর্শনে। নকিয়া কম্পানির জন্য তারা কিছু প্লাস্টিক বেইজড প্রডাক্ট তৈরি করে এবং একই কম্পানি ব্রাজিলেও প্লান্ট বসার জন্য জন্য এক্সপার্ট হিসেবে তাকে আসাতে বলেছেন। আমি সেই কাজের পরিধিগত বিষয় জানার চেষ্টা করে বুজতে পারলাম এটা এখনও কুটির শিল্পের পর্যায়ে আছে। হয়েতো বা এটা আমার অপারগতা তার কথাটা আমি পুরোটা না বুঝেই জিগ্গেস করেছিলাম এমন কিছু কি আমরা করতে পারি না। তার মতে, এটাতে যেমন বেশি ইনিসিয়াল ইনভেস্টমেন্টের দরকার হয়না তেমনি প্রয়োজন হয় না বিশাল ইন্ফ্রাস্টাকচারের। দরকার হলো কম খরচের জনশক্তির জোগান দেয়া (প্রিয় পাঠক, অপ্রিয় হলেও সত্য, আমি তার কর্ম প্রনালীর বনর্না টার খুব একটা কিছু বুঝতে পারিনি তাই আমি ঠিক বর্ননা করেতে পারছিনা এটা কেমন ধরনের শিল্প। ক্ষমা প্রার্থনায়।)খানিক বাদে পাকিস্তানি ভদ্রলোকও জমায়েত হলেন আমাদের আড্ডায়। আমি একটা দারুন বিষয় খেয়াল করলাম যখনই তারা কথা বলেন তখন হিন্দিতে বলার চেস্টা করেন আমার সাথে। কেন জানি না তাদের ধারনা আমরা সবাই হিন্দিতে কথা বলি। আমাকে এমনটাও অনেকে জিগ্গেস করেছে আমাদের জাতীয় ভাষা কি এবং আমরা হিন্দি যে বলিনা এটা শুসে তারা বেশ মর্মাহত। তবে একটা বিষয় আমার বেশ গর্ববোধ হলো, যখন সবাই কে-কি-কেন-কি করে নিয়ে ব্যস্ত তখন আমার কর্মকান্ড নিয়ে তারা ভিষন ভাবে অবাক কেননা তারা এক চিন্তায় করতে পারেন না আমরাও এমনটা করতে পারি।
সময় শেষ হল সেই লম্বা আটলান্টিক পারি দেয়ার। আমি ব্যাংককে এসে নিউ জিল্যান্ড এ জাবার জোগার যন্ত্রনা শুরু করলাম। প্রথম ভুলটা করলাম হংকং হয়ে অকল্যান্ড যাবার টিকেট কেটে। পরের দিন সকালে আমার ফ্লাই আমি সন্ধায় যানতে পারলাম আমার হংকং হয়ে যাবার জন্য ট্রানজিট ভিসা লাগে। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সেই সন্ধ্যায় আবার টিকেট বদলাতে গিয়ে বেশ কিছু টাকার বেহুদা খরচা হলো। একে তো প্রায় নি:স্ব তার উপর অযথা খরচ সামলানর মত কোন অবস্থাই আমার তখন ছিল না। শেষমেষ সব ঝামেলা চুকিয়ে মালয়শিয়ান এয়ারলাইন এ করে অকল্যান্ড এ এলাম।
এটা সত্য আমাকে নেয়ার জন্য আমার এক বন্ধু বড় ভাই ড: ফকরুল আলম এসেছিলেন এয়ারপোর্টে। এই ব্যাপারটাতে আমি ভিষন ভাবে ভাগ্যবান বলতে হয় যে আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই কাউকে না কাউকে পেয়েছি যিনি এসেছিলেন আমাকে নেয়ার জন্য। এটা করা শুধু কটা টাকা বাচানর উছিলায় এবং কোথায় উঠবো তার একটা খোজ পাবার। ঠিক পূর্বেকার মত বোর্ডিং হয়ে বের হবার সাথে সাথে পুলিশের নেক নজরে পরলাম এবং তার সকল কৌতুহল হলো আমার ইম্বাকেশন ফরমটার দিকে। অতি সাধারন কিছু কথা জিগ্গেস করার পর আর স্থানীয় কন্টক্ট এড্রেসে যোগাযোগ করলেন আমার সামনেই। কিছুটা চিন্তায় ছিলাম, কি হয় কি হয়। না কিছু হলো না। স্বাগত জানালেন।

Spirit of Resolution

Christcharuch
এর চেয়ে কোন সস্তা থাকার ব্যবস্তা করার কোন উপায় ছিলনা অকল্যান্ড শহরে। অনেক খুজে পেতে কুইন স্ট্রিটের এই হোস্টেল এ এলাম প্রতি রাতের ভাড়া ২৪ ডলার করে তাও একই রুমে ৮ জনের থাকার ব্যবস্থা। ভ্রমন পরিক্রমায় নানাপদের জায়গায় থাকার সৌভাগ্য বা দূভার্গ যাই হোক না কেন এই অভিঞ্জতা একে বারে নতুন। সত্যি আমি আগে এমন কোন জায়গায় থাকিনি। এটা ভাল না খারাপ তার চেয়ে এটা বলা ভাল এটা আমার জন্য নতুন অভিঞ্জতা।
স্থানীয় বাংলাদেশিদের সাথে দেখা হতে খুব একটা বেশি সময় লাগল না। অত্যন্ত অতিথীপরায়ন প্রবাসী বাংলাদেশীরদের একটা অর্গানাইজেশন আছে, বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ এশোসিয়েশন। দেখে ভাল লাগার মত ছোট করে হলেও তাদের বসার একটা জায়গা আছে। আছে বাংলা পত্রিকা আর “একতার” বাংলা রেডিও। তাদের কাছেই জানতে পারলাম প্রায় ৬০০ জন বাংলাদেশী আছে এখানে। তবে কেউই মূল শহরে থাকনে না। এবং আরেকটা বিষয় জানতে পারলাম দেশ থেকে এতো দূরে এসেও আমরা সবাই একসাথে হতে পারিনি। দল আছে, মত আছে, আছে মতভেদ। আমি বাংলাদেশ পেলাম, প্রসান্ত মহাসাগরের পারে। কিছু বিজয়ী মানুষের কোলাহলে, সামাজিক ব্যবধানের আরেক রুপে।
আমার সাথে অনেকেই যোগযোগ করার চেস্টা এবং যোগাযোগ করেছেনও। এবং এটা সত্যি সত্য তাদের সাহায্য ছাড়া আমার পক্ষে টেকা দায় হয়ে যেত। তারা আমাকে এই বলে অভয় দিযে ছিলেন যখন যা লাগে তাই যেন বিনা দ্বিধায় চেয়ে বসি। আমাকে নিয়ে এপাড়া ওপাড়া, এ দ্বীপ ও দ্বীপ ঘুরে নিজের বাসায় পেল্লাই সাইজের ডিস খেতে দিযেছেন এবং দিতে চেয়েছেন অনেকে। আমি বেশ কজনকে দেখেছি যারা নিজের দেশটাকে নিয়ে এসেছেন এই দ্বীপ রাষ্ট্রে গলিতে। বিশেষ করে আমার পরম বন্ধু সাকিবের ছোট্ট ঘরে হট্টগোলের সুজোক আমি অনেক দিন মনে রাখবো। আমাদের ধর্ম-পরিচয়-অভ্যাস সবই যেন এক তবে কোথায় যেন একটা “কিছু” আছে। আমি জানি না সেটা কি, কিন্তু এটা সত্য, আছে কিছু একটা।
যাত্রা পথে অনেক মানুষের সাথেই কথা বা সময় কাটাবার সুযোগ হয়েছিল। এবং সত্যি কথা তারা আমাকে নানা জায়গায় নিযে গেছেন এবং যাবার পরামর্শ দিয়েছেন। এবং তারা এটা দেখে অবাকই হয়েছেন আমি শুধু মানুষ দেখায় তারনায় মশগুল! কেন জানি তারা ব্যাপারটা মেনে নিলেও বুঝেযে উঠতে পারতেন না সেটা বলে ফেলা যায় সহজেই। তাদের অতিপরিতৃপ্ত চোখের ভাষায় সে দেশ দেখতে আমার ভাল লাগত। তারা আজ কত সুখি। “আচ্ছা ইমরান তুমি কিন্তু অবশ্যই কুইন্সল্যান্ড এ যাবে, বুঝলা এটা দেখলে সারা নিউ জিল্যান্ড এ আর দেখার কিছু নাই”। তার বলার সে ভাষা, চাহনিতে ঠিকরে আসত! আমি কষ্টে গুংগে উঠতাম কেউ আমাকে বাংলাদেশের গল্প করতে বলে না। বলে না আমাদের কোথায় যাওয়া যেতে পারে পরের বার দেশে গেলে। আমি প্রতিবার শিউরে উঠতাম খানিক বদলে যাওয়া মানুষ গুলোর পরম আতিথীয়তায়। তারা আমার জন্য যা করেছেন তার যোগ্য আমি ছিলাম বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ঝানু একাউন্টেন, বিখ্যাত মনসত্বত্তবিদ সবাই আমার সফল্যকামনায় অন্তিম যে আগ্রহ দেখিয়েছেন তার প্রতিদান দেবার জন্য আমার যা ছিল তা নিতান্তই বাংলাদেশের কিছু গল্প! নতুন কিছু নয়।

the Path!
পরিকল্পনায় ছিল অকল্যান্ড থেকে ক্রাইটসচার্চে যাব আমার সাইকেলে করে। এবং মজার বিষয় হলো আমার কাছে মাত্র ৩৫০৳. বিশ্বাস করাটা কিঞ্চিৎ কষ্টের। আমি হাফসে উঠতাম আরেকটা দিন কিভাবে কাটাবো এখানে, একটা বেশিরাত মানে আরও কিছু টাকা বের হয়ে যাওয়া। আমি দিন গুনে গেলাম।
হটাৎ করেই অকল্যান্ড থেকে ক্রাইটসচার্চে যাবার একটা সুজক করেদিলেন ক্যাপ্টেন মাহমুদ সাহেব। তিনি স্থানীয় এক মেরিন শীপের ক্যাপ্টেন। একথায় রাজি হয়েগেলাম। যদিও আমার পুরো পরিকল্পনা বদলে গেল বেশ। আমি সমুদ্র ভ্রমনের আমেজে মশগুল হয়েগেলাম।
সব ঠিক মতই চলছিল খালি আমার সাইকেলটা শেষকালে বিগরালো। একটা প্যাডেল কাজ করছেনা। দেশেও আমার সাইকেলের একই সমস্যা।তবে প্রতিটি প্রতিরোধের ক্লান্তি আমাকে সাফল্য পেতে সাহায্য করছে অতীতে এবং তাই সারতে কষ্ট হলেও মনের মাঝে বল পেলাম, এতটা পথ পারি দিতে পারবো তো? পকেটের অবস্থা অতটাই করুন যে রওনা দেয়ার আগে মেইল করেছিলাম আমার কিছু বন্ধুর আছে। ব্যাপারটা বেশ বন্ধুর ছিল আমার জন্য। জাহাজে চরার আগেও জানতাম না আমার কি হবে যখন আমি রাইড শুরু করব। আমার কাছে ১০০ টাকারও কম আছে এতেই আমার প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ চলতে হবে। কোথায় থাকবো কি খাব জানি না। আমি প্রাণ পনে চাইতে লাগলাম একটা মেইল, কিছু টাকার অনুদান! হাহ! অপেক্ষা।
টাসমান সীতে আমাদের জাহাজ “সিপিরিট অব রেজুলুশান” বেশ টালমাটাল ছিল তাই প্রথম সমুদ্র যাত্রা আমার জন্য বিভিশিকাময় হয়ে উঠল। চলতে শুরু করার ঘন্টাখানেকের মধ্যে সী সিক হয়ে গেলাম। সে যাত্রায় পরিত্রান পাবার আমার বিন্দুমাত্র সম্ভবনা ছিলনা ক্যাপ্টন মাহমুদ সাহেবের আত্নিক পরিচর্যা না পেলে। প্রথম দিন কোন কিছুই খেতে পারলাম না। দ্বিতীয় দিনে প্রসান্ত মহাসাগর আমার প্রতি কিছুটা নম্র হবার কারনেই মনে হয় প্রকৃতির সৌন্দর্যলীলা উপভোগের সুজগ পেলাম।
এটা কেমন তার বর্ননা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না তবে এটা ঠিক আমি এমন কিছু একটা দেখেছিলাম যেবার ঢাকা থেকে আমাদের নিজেদের নৌকা “দইজ্জা গরম”- এ করে সেইন্ট মার্টিন্স এ গিয়েছিলাম। প্রশান্তের জল আমাদের মত নয়, এটা নীল। ডলফিন? হ্য আমরাও কক্সবাজার থেকে উত্তরের টিলাগুলোকে বামে রেখে রেখে যখন এগিয়ে যাচ্চিলাম তখন প্রথমটায় ভিমরি খেয়েছিলাম ডলফিন দেখে। তবে জলের রং ছিল হালকা সবুজ।
আমি প্রশান্তর সৌন্দর্যে শান্তি পেলাম এই ভেবে- এ সৌন্দর্য্ আমার কাছে একেবারে নতুন নয়। আমার দেখে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এর আছরে পরার শব্দ এই জাহাজের মত না হলেও ভীনগ্রহী নয়। আমার আনুভবে মহাসাগর প্রশান্ত লজ্জিত হবে না, কেননা হেট হয়ে থাকা ছোট একটা মানচিত্রে বড় হওয়া এই আমার আমি চেতন এবং অবচেতন মনে দেশটাকে খুজি সব সময়। এটা আমার দোষ, ভুল না। আমি মেনে নেই নিজেই।

i have seen it or something like it in Bangladesh
মহাসাগর শীতল বাতাস বইয়ে দিয়ে নিজের তেজ কমিয়ে নিয়েছিল আমাকে দেখবার সুজোক দিয়ে। সীমানা কতো বড় হয় আমার জানা ছিলনা। পরিমিতির হিসেবে হরতাল হল আমার মনে। আমি গুলিয়ে ফেললাম! বিধাতা আমার দৃষ্টি বাড়িয়ে দাও – দেখতে দাও আরও কিছু।হ্যা, আমার আমার হিংসুটে মনে একটা কথায় আটকে গেল – প্রশান্ত মহান এবং সত্যিই বিশাল!
পরদিন সকালে ভূমিতে পা দিয়ে প্রথম মনে হলো সারা পৃথিবীর আজ অসুক করেছে। এত নরাচরা আগে কখনও করেনি।আমি বুঝে নিলাম আমার জাহাজ ভ্রমণের দুলনি এখনও যায়নি। সেদিন থেকে গেলাম ক্রাইস্টচার্চে তবে মাহমুদ সাহেব এবং সাখু ভাইয়ের সাথে শহর দেখা হল। খুজে পেলাম বিদেশ মানচিত্রে আরেক বাংলাদেশ – “টেস্ট অব ব্যঙ্গল” বাংলা খাবার। অনেক দিন বাদে বাংলা খাতির পেলাম ভদ্রলোকের কাছ থেকে। আর কোন বাংলা দোকান এখানে আছে কিনা আমার আর জানা হলো না। চলে এলাম হোস্টেলে।
সকালে মেইল চেক করে দেখলাম আমার ডাকে সারা দিয়েছে যে জন তিনি আমাকে চেনেন ও না। সুদূর আমেরিকা থেকে আমার সারভাইব করার জন্য বিশাল এক উপহার অপেক্ষা করছে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানিট্রান্সফারের জানালায়। এযাত্রায় উৎড়ে গেলাম মনে হয়। আমার এই বন্ধুর দেখা পেলাম সত্যিই এক বাজে সময়ে। পরিচয় পর্বটা হয়েছিল কেমন জানি ভাবে। আমার আকুলমন “বলাকা” কবিতা পরার জন্য আকুপাকু করছিল যখন, আমি হেনতেন সবাইকে মেইল করে উত্তর না পেয়ে “আমারব্লগে” পোস্টটা দিলাম। খানিক বাদে মেইল পেলাম স্পস্ট বাংলা লেখা কবিতাটি আর প্রেরকের নাম নির্জন সৈকত! হেয়ালিপূর্ন লেখায় ভালবাসার আবেশ জড়ান কটা লাইন আমি পরেছিলাম ম্যাক্সিকোতে বসে। কত বার? অনেক বার, অনেক অনেক বার। কখনও কবিতার গন্ধ শোকার জন্য কখনও বা তার সাধুবাদে কাবু হবার জন্য। ধন্যবাদ বন্ধু! খুবই বিশ্রি রকম হাহাকারের মাতমে আপনার সম্প্রদান ছিল তেমন কিছু যার প্রতিলিপি লেখা কিংবা পরিশোধ করার সার্মথ আমার না হলেও চেষ্টা করব প্রতিবার। সাহস দেবার জন্য স্বাধুবাদ! জয় হোক।
খাবার কেনা হলো সে টাকায়। আমি যাবার প্রস্তুতি নিলাম দু স্লাইস রুটি খেয়ে। সমস্যা হলো মূল শহর গুলো থেকে বের হওয়াটা একটা ঝামেলা। কেননা তাদের মোটরওয়ে গুলোতে সাইকেল চালান নিষেধ। শহর থেকে বেরতে বেরতেই বেশ সময় চলে গেল। যখন হাইওয়েতে উঠে গেলাম আর কোন চিন্তা থাকলো না। জানি আমি এই পথই আমাকে নিয়ে যাবে একে বারে শেষ সীমায়। শুধু চালিয়ে যাওয়া।

My tent
এদেশ সম্পর্কে আমাদের সবারই কম বেশি জানা আছে। একে তো দুধের জন্য আর হলো অস্বাভাবিক সৌন্দর্য্য এ জন্য। ক্যালেন্ডারের পাতায় তাদের অতি প্রাকৃত সৌন্দর্যের আক্ষান সেই ছোট বেলায় দেখা ছবির প্রতিলিপির খোজ আমার মাঝে এখনও। হোস্টেল থেকে বের হবার সময় ইন্ফো ডেস্ক থেকে জানতে পারলাম শহরতলী থেকে কিছুটা বের হবার সাথে সাথে আমি আসল নিউ জিল্যান্ড দেখতে পাব।
কথাটা একে বারেই সত্যি। আমি বেশ আশাহত হয়েছিলাম অকল্যান্ড শহর দেখে। আমি কোন প্যার্টান খুজে পাচ্ছিলাম না আসলে। না চোখে পড়ার মত আর্কিটেকচার, না অতি আধুনিক কোন কিছু। না পুরাতন, না নতুন। কেমন জানি ব্যাপরটা। তবে এটাও সত্য বৃটিশদের ফার্ম হাউজ নামে পরিচিত এদেশের সবই আছে শহরের বাইরে। ছিমছাম, গোছান মনে হয় রাস্তার পাশের প্রতিটি ঘাস। এবং বিস্তির্ন মাঠের মধ্যে যখন কোন ফার্ম হাউজ চোখে পরে তখন ঠিক লিটল হাউজ অন দি প্রইরির কথা মনে পরে যায়।
স্ট্রবেরির বাগান আছে পথের পাশেই আগেই শুনে ছিলাম দোকান থেকে ঝুড়ি নিয়ে বাগানে গিয়ে ফল উঠাতে হয় নিজেকেই এবং সে সময় যে যতগুলো খেতে পারের তার দাম দিতে হয় না। ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত। পথের সাথে পথ এসেছে আমাদের নদীর মত। ফারাক একটাই আমাদের গুলো একটু কম পরিস্কার আর এখানের সব কিছুতে একটু বাড়াবাড়ি।
প্রথম দিনের আবহাওয়া ছিল মনে রাখার মত ভাল। একা আমি এগিয়ে যাচ্ছিলাম জগতের পেট চিড়ে সোজা সামনের দিকে। দুপাশে সবুজের নদী, উপরে নীল আকাশ আর আমার সামনে ৩০ ফুট চওড়া কালো পিচ মোড়া পথ! তবে হাওয়ায় দম আছে। কখনও আটকে রাখে একই জায়গায় আবার কখনও বাতাসে ভর দিয়ে এগিযে যাই। আমার শরীর বাতাসের অংশ হয়ে পরে। আমার মনে পরে প্রিয় বই “দ্যা এ্যলকেমিস্ট” এর সেই কটা লাইন। মরুদ্যানে ধরা পরা বৃদ্ধ এ্যলকেমি আর মেষ পালক সাদিয়াগোকে যখন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল যে তাদের কথা প্রকৃতি শোনে। তার আকুল আবেদনে বাতাস সায় দিয়েছিল, সায় দিয়েছিল মরু, এবং পরাক্রমি সূর্য! বিশ্বাসের অপর নাম সাফল্য।আমার মাঝে জগত এসে ভর করত। আমি হাটার মত করে এগিয়ে যেতাম। খুবই ধীরে। পায়ের বদলে পথ আকরে আছে আমার সাইকেলের চাকা। মাঝে মাঝে আমার ডান হাটুতে কট কট শব্দ হচ্ছে। আমি থেমে যাচ্ছি। তবে এক বারে নয়। কেমন এক ভাবলেশহীন অবস্থা।

Alps and the pacific
প্রথম দিনে ইতি টানরাম সুন্দরম এক গাছ ঘেরা জায়গায়। থাকার জায়গা বলতে আমার তাবু আর খাবার বলতে রুটি আর বাটার। সন্ধা থেকে শুরু হতো আমার রাত্রিবাস। এখানে সন্ধ্যা নামে আমাদের রাতের প্রথম প্রহরে তবে সবাই ঘরে ফেরে ঠান্ডা বাতাসে কাবু হবার আগেই। আমিও তাবুর দরজাটাকে একটু ফাক করে রেখে বাতাসের ঝালরটাকে আটকে মৃদু ভাবটাকে উপভোগ করি। বই পড়ে সময়কে পরাজিত করার চেষ্টা করি। সময় যেন থেমে থাকে নিজের মত করে। চারপাশ নিশ্চুপ। আমি আমার বড় করে শ্বাসটানার শব্দ পাই। নিজের কাছেই জানতে চাই আর কতটা পথ পেরুলে তবে নিজেকে চেনা যায়! আর কতটা পথ পেরুলে তবে জীবন চেনা যায়! ব্যাগ থেকে সব কিছু বের করে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখি তাবুর দেয়ালে আর মেঝে জুড়ে। আমার বসত এই ছোট তাবুটাই আমার ঢাকার ঘর। শুধু রাস্তায় রিকশার শব্দ নেই। নাইট গার্ডের কান ফাটা বাশি নেই। সবই আছে শুধু আমার ঢাকা নেই এখানে। তবুও আমি তাকে নিজ রূপদান করার অক্লান্ত চেষ্টা করি। পিঠের ব্যগটাকে বালিশ আর রাত জেগে বই পড়ার জন্য মাথার কাছে যে বেড ল্যাম্পটা ছিল তার জায়গা নিয়েছে আমার জেনন হেড ল্যাম্পটা। প্রতিদিন রাস্তায় যা পরে থাকত পড়ার মত কিছু তাই আমার রাতের পড়ার বই। পর দিন সকালে তাকে অবহেলায় ফেলে দিতাম বাড়তি বোঝাটা কমাবার জন্য।
সকাল হয়। স্লিপিংব্যাগের উষ্নতা আমাকে ছোট বেলায় স্কুলে যাবার কথা মনে করিয়ে দেয়। কত দিন আমার মায়ের বকা শুনি না। কত কাল ধরে তার গন্ধা মাখা হাত আমার কপালে পরেনি স্কুলে যাবার অনুরোধে। আমি আজ অনেক বড় হয়ে গেছি – আমাকে ডাকার জন্য কারও প্রয়োজন হয়না। শুধু সকালের শীত আর কুয়াশা জরান সকাল আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমার শৈশব। অতি কষ্টে লেপ থেকে বের হয়ে স্কুলে যাবার যন্ত্রনা আমায় স্মরণ করিয়ে দেয় সে কষ্টে যে সুখ ছিল তার আরেক প্রকাশ এই পরিবেশ। কখনই ভাল লাগতো না তাবু থেকে বেরুতে, আরেকটু খানি সময় থাকলে বা কি হয়? আমিই উত্তর দেই, সকালের সুর্যটাকে হারিয়ে ফেল্লে বাকিটা পথ পেরুতে আরও কষ্ট। সেই কথাই বাজতে থাকে মনে। রাতে বানিয়ে রাখা পি-নাট বাটার আর রুটিতেই প্রাতরাশ সারি স্লিপিং ব্যাগের উষ্নতায়। কর্কষ ভাবে ঘড়ি বেজে ওঠে – উপায় নেই এখন ৬টা! আমার দিন শুরু।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাবুটাকে গুটিয়ে সব মালপত্র সাইকেল এ চাপিয়ে পানি ভরে নেই আমার বোতল গুলোতে। দেখতে দেখতে সকাল ৭ যে কখন বেজে যায় বুঝতেই পারতাম না।
সকালে প্রথম ধাক্কাটা হতো বাতাস। বেশ ঠান্ডাতো বটেই তার উপর হলো এর তেজ। মাথা কান ঢেকে যখন আবার চালান শুরু করতাম ফসলের জমিতে কেবল দুএক জন করে যারা আসছে, তারা আমাকে দেখে তাকিয়ে থাকতো্। তাদের আর দোষ কি এমন আগা মাথা মোড়া অবস্থায় সাইকেল চালতে কাউকে তারা দেখেনি। কিন্তু এ থেকে আমার আর কিছুই করার ছিল না। আমি এর চেয়ে বেশি ঠান্ডায় আরও বেশি দিন ছিলাম কিন্তু তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হতো আগে থেকে। আর এখানে হলো আমি কখনই জানবো না ওয়েদার খারাপ হবে কখন। কথায় আছে এখানে এক ঘন্টার সব সিজন দেখা যায়।
সকাল ৮টার দিকে সূর্যের দেখা যেত।তখন আমার পায়ের ও তেজ বারত। কখনও বা উঠতি পথে আটকে যেত আমার পা। আমি যে কত দুর্বল তার প্রতিফলন পেয়েছি প্রতি বার। যে বার প্রথম পাহাড়ে গেলাম সে বার তো আমার অবস্থা মৃত প্রায়। গেল বারও বেশ কষ্ট হয়েছিল, আমাকে ঠান্ডা থেকে বাচাবার জন্য সবার কি অপ্রান চেষ্টা। তবে মাঝ পথে আটকে যাবার মত কোন ঘটনা ঘটেনি কখনও। আমার দূর্বলতা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছে প্রতিটি বার, শেষ দেখার তাড়ায়। তাই প্রতিটি শেষ আমার চেনা।
এদিকের রাস্তা গুলোতে গতিসীমা দেয়া থাকে ১০০ কিমি। তাই পথে আমার চেয়ে ধীর গতির কিছুই নেই। পথ কখনও আকাবাকা কখনও মসৃন ভাবে চড়াই-উৎরাই। সবই যেন মাপমত। সাউথ আইল্যান্ড এ আছে বিখ্যাত সাউদার্ন আল্পস আর একপাশে প্রশান্ত মহাসাগর। পর্বতের কারনে বেশির ভাগ স্টেট হাই ওয়েগুলো তার কোন না কোন অংশে এর ছাপ পেয়েছে। এতে ভ্রমনে আসে বাড়তি আনন্দ। এই মহাসড়কের নাম প্যসিফিক এ্যলপাইন ট্রায়েঙ্গেল। পরিকল্পনা করে প্রশান্ত মহাসাগরের একেবারে পার ঘেসে চলে গেছে তৈরি হয়েছে এই মহাসড়ক এবং তার সাথে লাগোয়া রেল লাইন।
প্রশান্ত মহাসাগরের পার ঘেসে এগুতে গিয়ে সমস্যা হলো যে শুধুই থামতে ইচ্ছে করে। এক বার থেমে হালকা খেয়ে আবার শুরু করার পর কেন জানি পা আর চলতে চাইতো না। মাথায় শুধু একটাই চিন্তা আবার কথনও থেমে মহাসাগরের দিকে তাকিযে তাকবো। তবে সত্যটা ছিল যতই ইচ্ছে থাকুক বেশিক্ষন অপেক্ষার কোন সুজোক ছিলনা।
সাইকেল চালাতাম আর উত্তর পম্চিম দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আগের অভিঞ্জতা থেকে জানি পার্বত্য অঞ্চলের দিন হলো সকাল ৬টা থেকে বড়োজোড় দুপুর ২টা। তাই বেলা ১১টা থেকে ছোপ ছোপ মেঘ মাঝে মাঝেই সূর্য়ের তেজ খানিকটা কমিয়ে দিত। আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সাইকেল চালিয়ে যেতাম। আমার ঘড়িতে ব্যরোম্যট্রিক চাপ দেখা যায়। সময়ই আমাকে বলে দিত এখন বৃষ্টি হবে। বাচোয়া এইযে এখানের বৃষ্টি আমাদের মত অবিরাম নয়। প্রথম এক পশলা বৃষ্টি হবার পর পিছনের মেঘ গুলোকে আরো কালো হতে দেখা যেত যা আমাকে ভয় পাইয়ে দিত প্রতি দিন। মেঘ-বৃষ্টি-ঝরের দেশের মানুষ হয়েও হাড় কাপানো শীত আর কামড়ান বাতাসের মাঝে বৃষ্টি – মোটেও সুখের নয়। আমার সো কল্ড অল ওয়েদার টুয়ে ব্রেথেবল ওয়াটার প্রুফ টিম্বারল্যান্ড জ্যাকেটের প্রতিটি বুনন দিয়ে বাতাস হানতো আমার বুকের খাচায়।আমি কুকড়ে যেতাম।
পা চালাতে থাকতাম আরও জোরে। থামার কোনই কারন নেই। একবার থেমে গেলেই এই শীতে জমে যাব আমি। আর তারপরের ব্যপারাট ভাবার আগেই দমকা হাওয়া হেচকাটানে আমাকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে এল পাশের ঘাসের জঙ্গলে। আরও সাবধান হয়ে গেলাম।
দুপুর বেলা চেষ্টা করতাম গরম কিছু খাবার তাই সকাল থেকেই সময়টা মেনে চালাতে হতো। কখনও বিফ পাই বা স্যস্ডউইচ এই ছিল ম্যনু আর এগুলোই ছিল সবচেয়ে কমদামের। দুনিয়ার খুব বেশি জায়গায় সাইকেল চালনার অভিঞ্জতা আমার নাই এটা সত্য তবে নিউ জিল্যান্ড মনে হয় সাইকেল চালনর জন্যই তৈরি। সাগর-মহাসাগর, পবর্ত-নদী, বিস্তির্ন তৃর্নভূমির মাঝ দিয়ে অপার সৌন্দর্য ঘেরা রাস্তায় নি:সংকোচে ভ্রমনের মজা আমি বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও পেয়েছি বলে আমার জানা নেই।

আমার প্রিয় সাইকেল
তবে এটা সত্য সে সৌন্দর্যের বর্ননা আমার লেখায় যেমন আসবে না তেমনি আমার ছবিতেও ধরা পরার সম্ভবনা খুবই কম। সারা জীবনেই অপ্রতুল জ্ঞান নিয়ে বেরে ওঠা আমার এই অনুসোচনা যে হ্য এটা সত্যি সুন্দর তবে আমাদের দেশের শ্রীমঙ্গল হয়ে জৈন্তাপুর যাবার সময় বড়চতুল বলে যে গ্রাম পরে আর সে গ্রামের পিছনে যে পাহাড়ের অবয়ব দেখা যায় স্পষ্ট তার সৌন্দর্য আমার পাপড়ি জুড়ে এখনও। এটা ঠিক ঐ পাহাড়েরর নাম আল্পস নয়, এই নদীর নাম ওয়াইকারা নয়, মেষ-ঘোড়া-হরিন চরে না আমাদের জমিতে; তবে ঐ যে অপার-অপলক ভাললাগর জমিন জুড়ে ডলে দেয়া সবুজ রংএর ঘাস-ধানের কচি শীষ তার বিভিষিকাময় ভাললাগার অনুভূমি এর থেকে একে বারেই কি কম? সারি নদীর রং আর পানির ধরন কি এক বারেই আলাদা? আমার তা মনে হয় না। বরং অবহেলা অযত্নে প্রেমের বাহার ছরানর মদ গুনও আছে যে তার, সে খেয়াল কি আমাদের আছে?
আছে আমাদেরও আছে, শুধু দেখে যাবার চোখটা আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে কেন জানি। তাই বাংলাদেশ মনে হয় মহাদেবের মতই বলে
বহু দিন ভালবাসাহীন
বহু দিন উথাল-পাথাল
বহু দিন পরেনি কোন হাত কপালে
বহু দিন ভালবাসাহীন!
if anyone wants to communicate with me regarding anything, plz drop some lines here muntasir@gmail.com